নিঃসরণ । নিঃসরণের পরীক্ষা এবং ব্যাপনের সাথে পার্থক্য
নিঃসরণ কাকে বলে?
সংজ্ঞাঃ সরু ছিদ্রপথে কোনো গ্যাসের অণুসমূহের উচ্চ চাপের স্থান থেকে নিম্ন চাপের স্থানের দিকে সজোরে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলে।নিঃসরণ একপ্রকার ব্যাপন।
নিঃসরণ পরীক্ষাঃ
একটি বেলুনকে ফুঁ দিয়ে ফোলাই। এবার যদি বেলুনটির গায়ে একটি সুঁই দিয়ে ছিদ্র করার চেষ্টা করা হয় তাহলে এটা তো নিশ্চিত যে বেলুনটি ফেটে যাবে। কাজেই বেলুনটি যাতে ফেটে না যায় সেজন্য বেলুনের গায়ে এক টুকরা স্কচটেপ লাগিয়ে নেই। এরপর একটি আলপিন বা সুঁই দিয়ে স্কচটেপের উপর দিয়ে বেলুনটিকে ছিদ্র করার চেষ্টা করলে দেখা যাবে বেলুনটি আর ফাটছে না বরং একটি ছিদ্র তৈরী হয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বেলুনের ভেতরের সমস্ত বাতাস ছিদ্রপথ দিয়ে সজোরে বেরিয়ে আসছে এবং বেলুনটি ধীরে ধীরে চুপসে যাচ্ছে। স্কচটেপ না লাগিয়ে বেলুনটি ফুটো করার চেষ্টা করলে সেটি সশব্দে ফেটে যাবে ফলে পরীক্ষাটি যথাযথ হবে না। এখানে বেলুনের ভেতরে বাতাসের চাপ বেশি ছিল এবং বেলুনের বাইরে বাতাসের চাপ কম ছিল। তাই উচ্চ চাপের প্রভাবে ছিদ্রপথ পাওয়ার সাথে সাথে বেলুনের বাতাস নিম্নচাপের স্থানের দিকে ধাবিত হয়েছে। এটিই মূলত নিঃসরণ। অর্থাৎ এখানে সরু ছিদ্রপথে গ্যাসের অণুসমূহ উচ্চ চাপের স্থান থেকে নিম্ন চাপের স্থানের দিকে সজোরে বেরিয়ে এসেছে। তাপ প্রয়োগ করলে নিঃসরণের হার বৃদ্ধি পায়। কারণ আমরা জানি, তাপ প্রয়োগের ফলে কণাসমূহের গতিশক্তি বেড়ে যায় এবং কণাগুলোর মধ্যকার আকর্ষণ বল কমে যায় ফলে কণাগুলো আরো দ্রুত ছড়িয়ে পরতে পারে। তাই তাপ প্রয়োগে নিঃসরণের হার বৃদ্ধি পায়।
ব্যাপন ও নিঃসরণ একই ঘটনা। তবে এদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমনঃ
ব্যাপন একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া অর্থাৎ ব্যাপন স্বাধীনভাবে ঘটতে পারে কিন্তু নিঃসরণ স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া নয়।
ব্যাপনের ক্ষেত্রে চাপের প্রভাব নেই তবে নিঃসরণের ক্ষেত্রে চাপের উপর নির্ভর করে। চাপ বেশি হলে নিঃসরণের হার বেড়ে যায়।
ব্যাপন দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয় কিন্তু নিঃসরণ স্বল্প সময় স্থায়ী হয়।
নিঃসরণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গ্যাসীয় পদার্থ গ্যাসীয় মাধ্যমে সরু ছিদ্রপথে সজোরে বেরিয়ে আসে কিন্তু ব্যাপনের ক্ষেত্রে কোনো কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ উপযুক্ত মাধ্যমে সবদিকে সমান ভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ব্যাপন একটি ধীর প্রক্রিয়া কিন্তু নিঃসরণ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হয়।
- নিঃসরণ ঘটে যখন ছিদ্র বা অ্যাপারচার অণুর গড় মুক্ত পথের চেয়ে ছোট হয়। অপরদিকে ব্যাপন ঘটে যখন অ্যাপারচার অণুর গড় মুক্ত পথের চেয়ে বড় হয়। ( গড় মুক্ত পথ হচ্ছে একটি কণা অন্য আরেকটি কণার সাথে সংঘর্ষের ফলে যে গড় দূরত্ব অতিক্রম করে )
উদাহরণঃ একটি কমন উদাহরন হলো স্প্রে। স্প্রে যখন করা হয় তখন প্রথমে সরু ছিদ্র পথে গ্যাসের বেরিয়ে আসা হলো নিঃসরণ। নিঃসরণ হওয়ার পর গ্যাসের কণাগুলোর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া হলো ব্যাপন।
Related contents:
তরল ও জলীয় দ্রবনের মধ্যে পার্থক্য।
Sc ও Zn অবস্থান্তর মৌল নয় কেন?
2 thoughts on “নিঃসরণ । নিঃসরণের পরীক্ষা এবং ব্যাপনের সাথে পার্থক্য”